ইনি অরুণিমা, ‘Backpacker Arunima’ নামে পরিচিত একজন একক বিশ্বভ্রমণকারী। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ১২ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার। গত কয়েক বছর ধরে একা একা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোই তাঁর নেশা।

ইনি বিশ্বাস করতেন যে মনুবাদ বর্জিত দেশগুলি খুব শান্তিপূর্ণ এবং বোরখার বর্মে নিজেকে নিরাপদ মনে করতেন। সেই বিশ্বাসের জোরেই বোধহয় আফগানিস্তানেও একা ভ্রমণ করতে চলে গেলেন।

কিন্তু আফগানিস্তানের মাটিতে গিয়ে সেই ‘শান্তি’ আর ‘স্বাধীনতার’ বাস্তব চেহারাটা খুব কাছ থেকে দেখতে হল তাঁকে।

বামিয়ানে একা ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁকে জানানো হয়, একজন মহিলা একা ভ্রমণ করতে পারবেন না—পুরুষ সঙ্গী অথবা গাইড থাকতে হবে। এর আগেও জালালাবাদে একা থাকার কারণে তিনি পারমিট পাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন।

এরপর অরুণিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান যে তাঁকে ‘মুজাহিদিন’ গ্রেফতার করেছে এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাহায্য চান।

অর্থাৎ অপরাধটা কী?

  • চুরি নয়।
  • খুন নয়।
  • জঙ্গি কার্যকলাপ নয়।

অপরাধ—একজন মহিলা হয়ে একা ভ্রমণ করা!


যে নারী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একা ঘুরেছেন, সেই নারীই আফগানিস্তানের মাটিতে এসে বুঝলেন—এখানে একজন মহিলার স্বাধীনভাবে চলাফেরাটাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

তারপর প্রশ্ন হল—

তাঁকে সাহায্য করল কে?

মনুবাদ নিয়ে আজাদির নারা লাগানো কেরলের বামপন্থী নেতারা?

কোনও ‘আলহাবিবি’?

পাপ্পু রাহুল গান্ধীর কেরালার কংগ্রেস সরকার?

নাকি সেই তথাকথিত ‘মনুবাদী’ ভারত?

উত্তরটা কিন্তু বেশ মজার।

শেষ পর্যন্ত বিপদের সময় পাশে দাঁড়াল ভারতীয় দূতাবাস এবং একজন বিজেপি নেতা—কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী। অর্থাৎ মনুবাদী ভারত সরকার।

অরুণিমা নিজেই দেশে ফিরে ভারতীয় দূতাবাস এবং সুরেশ গোপীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দূতাবাস তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলে, পরে তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্যের ব্যবস্থা করে। বামিয়ান থেকে কাবুলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হয় এবং কাবুলে পৌঁছনোর পর ভারতীয় দূতাবাস তাঁকে গ্রহণ করে।


তারপর?


ভারতীয় দূতাবাস তার জন্য ভারতে ফেরার বিমানও ব্যবস্থা করে দেয়। ভারতীয় দূতাবাস বিনামূল্যে তার টিকিট বুক করে দেয়, দেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা খরচ করে।


অর্থাৎ বিপদের দেশে আটকে পড়া একজন ভারতীয় মহিলাকে নিজের দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এল মনুবাদীদের ভারত সরকার এবং ভারতের দূতাবাস।

আর এখানেই আসল ব্যঙ্গটা লুকিয়ে আছে।

যে ভারতকে কংগ্রেসী, সমাজবাদী এবং বামপন্থী কমিউনিস্টরা সারাক্ষণ ‘মনুবাদী’, ‘অসহিষ্ণু’, ‘নারীবিরোধী’ বলে গাল পাড়তে ব্যস্ত—

বিপদের সময় সেই ভারতই কিন্তু নিজের নাগরিক মহিলার পাশে দাঁড়াল।

দেশে ফেরার পর অরুণিমা নিজেই ভারতীয় দূতাবাস ও সুরেশ গোপীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং নিজের দেশে ফিরে আসার স্বস্তির কথা জানিয়েছেন।

তাই প্রশ্নটা খুব সহজ—

স্বাধীনতার সংজ্ঞা কি শুধু বক্তৃতার মঞ্চে দেওয়া স্লোগানে ঠিক হয়?


নাকি একজন নারী যখন বিপদে পড়েন, তখন তিনি কতটা স্বাধীনভাবে চলতে পারেন, কতটা নিরাপদে নিজের জীবনযাপন করতে পারেন এবং বিপদের সময় তাঁর পাশে কে দাঁড়ায়—সেটা দিয়েও স্বাধীনতার বাস্তব চেহারা বোঝা যায়?

অরুণিমার আফগানিস্তান সফর অন্তত একটা শিক্ষা দিয়ে গেল—

দেশকে গাল দেওয়া খুব সহজ।

কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে নিজে বিপদে পড়লেই দেশের মূল্য বোঝা যায়।

আর শেষ পর্যন্ত সেই ‘মনুবাদী’ ভারতেই ফিরে এসে একজন ভারতীয় নারী নিরাপদ বোধ করলেন—এই বাস্তবতাটাকে অস্বীকার করবেন কীভাবে?


স্লোগান নয়, বিপদের সময় কে পাশে দাঁড়ায়—সেটাই আসল পরীক্ষা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন